কবি পরিচিতি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় | বাংলা ১ম পত্র | The identity of the poet

Author:

Published:

Updated:

কবি পরিচিতি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় | বাংলা ১ম পত্র | The identity of the poet

Get Study Online – Google News

Do you want to get our regular post instant? So you can follow our Google News update from here.

কবি পরিচিতি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় | বাংলা ১ম পত্র | The identity of the poet

Table of Contents

কবি পরিচিতি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় | বাংলা ১ম পত্র

কবি পরিচিতি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় | বাংলা ১ম পত্র | The identity of the poet
কবি পরিচিতি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় | বাংলা ১ম পত্র | The identity of the poet

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার নৈহাটির কাছাকাছি কাঁঠালপাড়া গ্রামে ১৮৩৮ সালের ২৬ জুন জন্মগ্রহণ করেন। তিনি হুগলি মহসিন কলেজ এবং প্রেসিডেন্সি কলেজে পড়াশোনা করেছেন। ১৮৫৮ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ পাস করেন। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম গ্রাজুয়েট বা স্নাতক হিসেবে পরিচিত। কর্মজীবনে তিনি ছিলেন প্রথম ভারতীয় ও বাঙালি ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট এবং ৩৩ বছর চাকরির পর ১৮৯১ সালে অবসর গ্রহণ করেন। তাঁর পিতা যাদব চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ও একজন ডেপুটি কালেক্টর ছিলেন। ১৮৫২ সালে বঙ্কিমচন্দ্র ‘সংবাদ প্রভাকর’ পত্রিকায় কবিতা লিখে সাহিত্যচর্চায় আত্মনিয়োগ করেন।

১৮৬৪ সালে প্রকাশিত হয় ইংরেজি উপন্যাস Rajmohan’s wife। মোগল-পাঠান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নারী-পুরুষের প্রেমকে উপজীব্য করে ১৮৬৫ সালে তাঁর প্রথম উপন্যাস দুর্গেশনন্দিনী প্রকাশিত হয় এবং বাংলা সাহিত্যে এটিই প্রথম শিল্পসম্মত সার্থক উপন্যাস।

বিদ্যাসাগরের সংস্কৃতঘেঁষা সাধুরীতির বাংলায় যেটুকু জড়তা ছিল, বঙ্কিমচন্দ্রের হাতে তা দূর হলো- বাংলা হয়ে উঠল সাহিত্যের উপযোগী ভাষা। ধর্ম, দর্শন, সাহিত্য, ভাষা, সমাজ প্রভৃতি বিষয়ে তিনি উৎকৃষ্টমানের প্রবন্ধ রচনা করেছেন। এছাড়াও তাঁর অন্যতম কীর্তি বঙ্গদর্শন (১৮৭২) পত্রিকার প্রকাশ ও সম্পাদনা। এই পত্রিকাকে কেন্দ্র করে একটি লেখকগোষ্ঠী গড়ে উঠেছিল। বাংলা সাহিত্যে তিনি ‘সাহিত্যসম্রাট’ হিসেবে অধিক পরিচিত। এই কীর্তিমান পুরুষ ১৮৯৪ সালের ৮ এপ্রিল কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন । বঙ্কিমচন্দ্রের গ্রন্থসংখ্যা ৩৪ ।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম :

উপন্যাস : দুর্গেশনন্দিনী (১৮৬৫), কপালকুণ্ডলা (১৮৬৬), মৃণালিনী (১৮৬৯), বিষবৃক্ষ (১৮৭৩), কৃষ্ণকান্তের উইল (১৮৭৮), আনন্দমঠ (১৮৮২), রাজসিংহ (১৮৮২);
রম্যরচনা : কমলাকান্তের দপ্তর (১৮৭৫);

প্ৰবন্ধ :লোকরহস্য (১৮৭৪), বিজ্ঞানরহস্য (১৮৭৫), বিবিধ প্রবন্ধ (১৮৮৭ ও ১৮৯২), কৃষ্ণচরিত্র (১৮৮৬)।

আরো পড়ুন: স্মার্ট বাংলাদেশ অনুচ্ছেদ

কবি পরিচিতি কাজী নজরুল ইসলাম | বাংলা ১ম পত্র

কাজী নজরুল ইসলাম ১৮৯৯ সালের ২৫ মে (বাংলা ১৩০৬ সালের ১১ জ্যৈষ্ঠ) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর ডাক নাম দুখু মিয়া। তাঁর পিতার নাম কাজী ফকির আহমদ এবং মাতার নাম জাহেদা খাতুন। নজরুল অল্প বয়সেই পিতামাতা দুজনকেই হারান। শৈশব থেকেই দারিদ্র্য আর দুঃখ-কষ্ট ছিল তাঁর নিত্যসঙ্গী। স্কুলের ধরাবাধা জীবনে কখনোই তিনি আকৃষ্ট হননি। ছেলেবেলায় তিনি লেটো গানের দলে যোগ দেন। পরে বর্ধমানে ও ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানার দরিরামপুর হাইস্কুলে লেখাপড়া করেন।

১৯১৪ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে ১৯১৭ সালে ৪৯ নং বাঙালি পল্টনে যোগ দিয়ে করাচি যান। যুদ্ধশেষে নজরুল কলকাতায় ফিরে আসেন ও সাহিত্যসাধনায় মনোনিবেশ করেন। তিনি কিছুদিন মসজিদে ইমামতিও করেন। সাপ্তাহিক বিজলি পত্রিকায় ‘বিদ্রোহী’ কবিতা প্রকাশের পর সাহিত্যক্ষেত্রে তিনি বিদ্রোহী কবি হিসেবে পরিচিত হন। তাঁর লেখায় তিনি বিদেশি শাসক, সামাজিক অবিচার ও অন্যায়- অত্যাচারের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ কণ্ঠে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

নজরুল সাহিত্য রচনা ছাড়াও কয়েক হাজার গানের রচয়িতা। তিনি বেশ কয়েকটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন। তিনি গজল, খেয়াল ও রাগপ্রধান গান রচনা করে খ্যাতি অর্জন করেন। আরবি- ফারসি শব্দের সার্থক ব্যবহার তাঁর কবিতাকে বিশিষ্টতা দান করেছে। তিনি রবীন্দ্রনাথের তৈরি করা পথে না চলে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যে নিজেকে বিকশিত করেছেন। সাহিত্যে এনেছেন সাম্যবাদ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা।

গল্প, উপন্যাস, নাটক ও প্রবন্ধ রচনায়ও তিনি কুশলতার পরিচয় দিয়েছেন। সম্পাদক এবং সমালোচক হিসেবেও নজরুল খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।নজরুলের উপন্যাসগুলোর পটভূমি গড়ে উঠেছে বিপ্লব ও স্বাধীনতা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে। দেশপ্রেম এবং নির্যাতিত মানুষের কথা উপন্যাসগুলোতে বাস্তবসম্মতভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। নজরুলের ছোটগল্প বেশিরভাগই প্রেমকেন্দ্রিক। তিনি মূলত যৌবনের কবি। যৌবনের ধর্মই হল একদিকে যেমন বিদ্রোহ এবং প্রতিবাদ, অন্যদিকে প্রেম। এ দুটো অনুভূতিরই সূচনা হয় আবেগের প্রাবল্য থেকে।

নজরুলের ভাষণ, সম্পাদকীয়, সমালোচনা, প্রবন্ধ, উপন্যাস, ছোটগল্প প্রতিটি ক্ষেত্রই ভাষার কাব্যিক ব্যঞ্জনা এবং বলিষ্ঠতায় পূর্ণ। তিনিদৈনিক নবযুগ, ধূমকেতু ও লাঙল পত্রিকায় সম্পাদকের কাজ করেছেন। মাত্র তেতাল্লিশ বছর বয়সে তিনি দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেন। ১৯৭২ সালে কবিকে ঢাকায় আনা হয় এবং তাঁকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করে জাতীয় কবির মর্যাদায় অভিষিক্ত করা হয়।

কবিকে ঢাকা ও রবীন্দ্র-ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় ডিলিট, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ‘জগত্তারিণী স্বর্ণপদক’, ভারত সরকার ‘পদ্মভূষণ’ ও বাংলাদেশ সরকার ‘একুশে পদক’ প্রদান করে। ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদ প্রাঙ্গণে তাঁকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়।

কাজী নজরুল ইসলামের প্রধান সাহিত্যকর্ম :

কাব্যগ্রন্থ : অগ্নিবীণা (১৯২২), বিষের বাঁশী (১৯২৪), ছায়ানট (১৯২৪), সাম্যবাদী (১৯২৫), সর্বহারা (১৯২৬), সিন্ধু-হিন্দোল (১৯২৭), চক্রবাক (১৯২৯), ফণি-মনসা (১৯২৯), প্রলয়-শিখা (১৯৩০);
উপন্যাস : বাঁধনহারা (১৯২৭), মৃত্যুক্ষুধা (১৯৩০), কুহেলিকা (১৯৩১); গল্পগ্রন্থ : ব্যথার দান (১৯২২), রিক্তের বেদন (১৯২৫), শিউলিমালা (১৯৩১);
প্রবন্ধগ্রন্থ : যুগবাণী (১৯২২), রাজবন্দীর জবানবন্দী (১৯২৩), দুর্দিনের যাত্রী (১৯২৬), রুদ্রমঙ্গল (১৯২৬)।

 

কবি পরিচিতি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | বাংলা ১ম পত্র

বাংলা সাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রতিভা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দের ৭মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। রবীন্দ্রনাথ বাবা-মা’র চতুর্দশ সন্তান ও অষ্টম পুত্র। তাঁর পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর, পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও মাতা সারদা দেবী। বাল্যকালে রবীন্দ্রনাথকে ওরিয়েন্টাল সেমিনারি, নর্মাল স্কুল, বেঙ্গল একাডেমি প্রভৃতি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের লেখাপড়ার জন্য পাঠানো হলেও বিদ্যালয়ের পড়ালেখার প্রতি তিনি মনোযোগী ছিলেন না। ঠাকুর বাড়ির অনুকূল পরিবেশে শৈশবেই রবীন্দ্রনাথের কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।

১৮৭৬ সালে পনের বছর বয়সে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ বনফুল। অতঃপর কবিতা, উপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক, প্রবন্ধ, শিশুসাহিত্য, ভ্রমণসাহিত্য, রম্যরচনা, সঙ্গীত ইত্যাদি শাখায় রবীন্দ্রনাথ রেখে গেছেন তাঁর অসামান্য শিল্প প্রতিভার স্বাক্ষর। তাঁর হাতেই সম্পন্ন হয় বাংলা ছোটগল্পের ভিত্তি ও প্রতিষ্ঠা। মাত্র ষোল বছর বয়সে “ভিখারিনী’ গল্প রচনার মধ্য দিয়ে ছোটগল্প-লেখক হিসেবে তাঁর আবির্ভাব। জীবনের শেষদিন পর্যন্ত তিনি বিভিন্ন গ্রন্থে মোট ১১৯টি ছোটগল্প লিখেছেন। তাঁর সর্বশেষ গল্পটির নাম ‘মুসলমানির গল্প’।

গল্পরচনায় বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি ও বিশেষ করে শিলাইদহ তাঁকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করেছিল। এজন্য তাঁর গল্পে প্রকৃতি একটি বিশেষ চরিত্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। গীতিময়তা তাঁর গল্পের আরেকটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য। কেবল সাহিত্যিক হিসেবেই নয়, একজন কর্মযোগী মানুষ হিসেবেও রবীন্দ্রনাথ তাঁর অনন্য কীর্তির পরিচয় রেখে গেছেন। ১৯০১ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘শান্তিনিকেতন বিদ্যালয়’।

এটিই পরবর্তীকালে ‘বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়’-এ রূপলাভ করে। ১৯১৩ সালে রবীন্দ্রনাথ তাঁর গীতাঞ্জলি (১৯১১) কাব্যের জন্য নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। রবীন্দ্রনাথ বাংলাদেশে প্রথম কৃষিব্যাংক স্থাপন করেন। বাংলাদেশের শিলাইদহ, পতিসর এবং শাহজাদপুরে জমিদারি তত্ত্বাবধান সূত্রে রবীন্দ্রনাথ তাঁর জীবনের একটা উল্লেখযোগ্য সময় অতিবাহিত করেন। গীতিকার ও চিত্রশিল্পী হিসেবেও রবীন্দ্রনাথের অবদান অনন্য সাধারণ। ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (১৩৪৮ বঙ্গাব্দের ২২ শ্রাবণ) কলকাতায় তিনি পরলোকগমন করেন।

BOU HSC English 1st Paper : Unit 1 | Lesson – 1 | Nelson Mandela

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর উল্লেখযোগ্য রচনা :

কাব্যগ্রন্থ : মানসী (১৮৯০), সোনার তরী (১৮৯৪), চিত্রা (১৮৯৬), ক্ষণিকা (১৯০০), গীতাঞ্জলি (১৯১১) বলাকা (১৯১৬), পুনশ্চ (১৯৩২), জন্মদিনে (১৯৪১), শেষলেখা (১৯৪১);
উপন্যাস : চোখের বালি (১৯০৩), গোরা (১৯১০), ঘরে-বাইরে (১৯১৬), শেষের কবিতা (১৯২৯);
ছোটগল্প : গল্পগুচ্ছ (১ম ও ২য় খণ্ড-১৯২৬, ৩য় খণ্ড-১৯২৭), তিনসঙ্গী (১৯৪১), গল্পসল্প (১৯৪১);
নাটক : বিসর্জন (১৮৯০), চিত্রাঙ্গদা (১৮৯২), অচলায়তন (১৯১২), ডাকঘর (১৯১২), রক্তকরবী (১৯২৬);
প্ৰবন্ধ আধুনিক সাহিত্য (১৯০৭), কালান্তর (১৯৩৭), সাহিত্যের স্বরূপ (১৯৪৩); :
আত্মজীবনী : জীবন স্মৃতি (১৯১২), ছেলেবেলা (১৯৪০)।

Global village paragraph for class 6 | Global village paragraph for All Classes

Emancipation meaning in Bengali | Bangla Meaning | English word with bangla meaning

কবি পরিচিতি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় | বাংলা ১ম পত্র

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার দেবানন্দপুর গ্রামে ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মতিলাল চট্টোপাধ্যায় ও মাতার নাম ভুবনমোহিনী দেবী। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে এফএ শ্রেণিতে পড়ার সময় তাঁর ছাত্রজীবনের ইতি ঘটে। তিনি জীবনের প্রথমদিকে একটি জমিদারী এস্টেটে সামান্য চাকরি করেন।

চব্বিশ বছর বয়সে সন্ন্যাসীর বেশে বেরিয়ে পড়েন, কিন্তু এ-বৈরাগ্যময় জীবনে তাঁর মন টেকেনি। ১৯০৩ সনে তিনি সমুদ্র পথে বার্মা (বর্তমানে মায়ানমার) যান এবং রেঙ্গুনে রেল-অফিসে কেরানি পদে চাকুরি করেন। সেখানেই তাঁর সাহিত্য-সাধনার শুরু। ১৯০৩ সালে প্রথম মুদ্রিত রচনা ‘মন্দির’ গল্পের জন্য কুন্তলীন পুরস্কার লাভ করেন। ১৯১৬ সনে তিনি কলকাতায় ফিরে আসেন ও সাহিত্য-সাধনায় মনোনিবেশ করেন।

১৯২১ সালে তিনি অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দেন। বাঙালি ঔপন্যাসিকদের মধ্যে জনপ্রিয়তার দিক থেকে তাঁর স্থান শীর্ষে। বাঙালি জীবনের সুখ-দুঃখ বেদনার ভাষাকে তিনি অত্যন্ত সার্থকতার সঙ্গে অংকিত করেছেন। সাধারণ মানুষের জীবনের কথাকে সাবলীল ও মর্মস্পর্শী ভাষায় উপস্থাপনার কৌশলে তিনি অসাধারণ কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। মানুষের মনুষ্যত্বকেই শরৎচন্দ্র বড় করে দেখেছেন।

বেদনালাঞ্ছিত মানবতার রূপ অঙ্কনে তিনি ছিলেন অসাধারণ। সাধারণ বাঙালি জীবনের দৈনন্দিন হাসি-কান্নার উপাখ্যান প্রীতি ও করুণার রসে সিক্ত করে তিনি আমাদের উপহার দিয়েছেন। সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জগত্তারিণী স্বর্ণপদক এবং ১৯৩৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিলিট উপাধি লাভ করেন। ১৯৩৮ সালের ১৬ জানুয়ারি কলকাতার পার্ক নার্সিং হোমে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় উল্লেখযোগ্য রচনা :

উপন্যাস : বড়দিদি (১৯১৩), পরিণীতা ( ১৯১৪), পল্লীসমাজ (১৯১৬), দেবদাস (১৯১৭), চরিত্রহীন (১৯১৭), শ্রীকান্ত (৪ পর্ব, ১৯১৭-১৯৩৩), গৃহদাহ (১৯২০), দেনা পাওনা (১৯২৩), পথের দাবী (১৯২৬), শেষ প্রশ্ন (১৯৩১); গল্প গ্রন্থ : রামের সুমতি (১৯১৪), মেজদিদি (১৯১৫), বিলাসী (১৯১৮), ছবি (১৯২০), হরিলক্ষ্মী (১৯২৬)।

কবি পরিচিতি রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন | বাংলা ১ম পত্র

মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানার পায়রাবন্দ গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত ও রক্ষণশীল মুসলমান পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা সম্ভ্রান্ত ভূস্বামী জহীরুদ্দিন আবু আলী হায়দার সাবের ও মাতার নাম রাহাতন্নেছা সাবেরা চৌধুরানী। তাঁর পৈতৃক নাম রোকেয়া খাতুন এবং বিয়ের পর নাম হয় রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন। ষোলো বছর বয়সে উর্দুভাষী ও বিপত্নীক সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে রোকেয়ার বিয়ে হয়।

সেকালে নানা কুসংস্কারের কারণে রোকেয়ার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা অর্জন সম্ভব হয়নি। তবে বাড়িতে বড় বোন করিমুন্নেসার নিকট বাংলা,বড় ভাই ইব্রাহিম সাবেরের তত্ত্বাবধানে ইংরেজি ও বিয়ের পর ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট স্বামীর উৎসাহে লেখাপড়া ও সাহিত্যচর্চা করেন। তাঁর সমগ্র সাহিত্যচর্চাই নারী মুক্তির জন্য নিবেদিত। মুসলমান মেয়েদের মধ্যে আধুনিক শিক্ষা বিস্তৃত না হলে তাদের মনের প্রসার কিছুতেই সম্ভব হবে না এবং মুসলমান সমাজও কিছুতেই গড়ে উঠবে না -একথা তিনি মর্মে মর্মে উপলব্ধি করেছিলেন।

সেজন্য নিজেই মেয়েদের স্কুল প্রতিষ্ঠা করে মুসলিম সমাজ-মনের জড়তা ও কুসংস্কার দূর করার জন্য কলমযুদ্ধ চালিয়েছিলেন। তাঁর ভাষায় ও বলার ভঙ্গিতে কুসংস্কার ও অন্ধ অনুকরণের বিরুদ্ধে তীব্র ব্যঙ্গ ও দীপ্ত রসিকতার সুর সহজেই চোখে পড়ে। নারী মুক্তির পথ হিসেবে নারী শিক্ষা প্রসারে তিনি অগ্রণী জন। সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল ও মুসলমান বাঙালি নারীদের সংগঠন আঞ্জুমানে খাওয়াতিনে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করে তিনি মুসলমান নারীদের শিক্ষা ও সংস্কৃতির পথে অগ্রসর হতে সাহায্য করেন। ১৯৩২ সালের ৯ ডিসেম্বর রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন মৃত্যুবরণ করেন।

রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন উল্লেখযোগ্য রচনা-

গদ্যগ্রন্থ : মতিচূর (১ম খণ্ড-১৯০৫ ও ২য় খণ্ড-১৯২২), অবরোধবাসিনী (১৯৩১);
উপন্যাস : সুলতানার স্বপ্ন (১৯০৮), পদ্মরাগ (১৯২৪)।

 

কবি পরিচিতি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় | বাংলা ১ম পত্র

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস একই জেলার ব্যারাকপুর গ্রাম। তাঁর পিতা মহানন্দ বন্দ্যোপাধ্যায় ও মাতা মৃণালিনী। দেবী। দারিদ্র্যের মধ্যে তাঁর বাল্য ও কৈশোরকাল কাটে। অত্যন্ত মেধাবি বিভূতিভূষণ ১৯১৪ সালে ম্যাট্রিকে ও ১৯১৬ সালে আইএ-তে প্রথম বিভাগে এবং ১৯১৮ সালে ডিস্টিংশনসহ বিএ পাস করেন।

তিনি দীর্ঘদিন বিভিন্ন স্কুলে শিক্ষকতা করেন এবং পাশাপশি সাহিত্যসাধনা করেন। প্রকৃতির সৌন্দর্য ও গ্রামবাংলার সাধারণ মানুষের জীবনাচরণের সজীব ও নিখুঁত চিত্র তিনি তাঁর বিভিন্ন লেখায় প্রকাশ করেছেন। সাহিত্যে তিনি প্রকৃতি ও মানবজীবনকে অখণ্ড সত্তায় ধারণ করেছেন। শুধু প্রকৃতির বর্ণনাই নয়, বরং তাঁর সাহিত্যে রয়েছে গভীর জীবনদৃষ্টি। তাঁর ভাষা মধুর, কাব্যধর্মী ও চিত্রাত্মক বর্ণনায় সমৃদ্ধ। তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি পথের পাঁচালী ও অপরাজিত যুগল উপন্যাস বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯৫০ সালের ১ সেপ্টেম্বর ঘাটশিলায় মৃত্যুবরণ করেন।

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় উল্লেখযোগ্য রচনা-

গল্পগ্রন্থ : মেঘমল্লার (১৯৩১), মৌরীফুল (১৯৩২), যাত্রাবদল (১৯৩৪), কিন্নরদল (১৯৩৮);
উপন্যাস : পথের পাঁচালী (১৯২৯), অপরাজিত (১৯৩১), দৃষ্টিপ্রদীপ (১৯৩৫), আরণ্যক (১৯৩৮), দেবযান (১৯৪৪), ইছামতী (১৯৪৯)।

 



Related Posts

About the author

Leave a Reply

Back to top arrow
কনফিউজিং সাধারণ জ্ঞান | General Knowledge for BCS, Admission & Jobs Exam Daily Spoken English #1 | English Spoken Tips চল্লিশ হাজার হাদীস থেকে চারটি কথা | Islamic Post A Railway Station Paragraph For SSC & HSC | Paragraph মৃত্যুর পরেও নেকি পাওয়ার ৬ টি উপায় | Islamic Post
কনফিউজিং সাধারণ জ্ঞান | General Knowledge for BCS, Admission & Jobs Exam Daily Spoken English #1 | English Spoken Tips চল্লিশ হাজার হাদীস থেকে চারটি কথা | Islamic Post A Railway Station Paragraph For SSC & HSC | Paragraph মৃত্যুর পরেও নেকি পাওয়ার ৬ টি উপায় | Islamic Post
কনফিউজিং সাধারণ জ্ঞান | General Knowledge for BCS, Admission & Jobs Exam Daily Spoken English #1 | English Spoken Tips চল্লিশ হাজার হাদীস থেকে চারটি কথা | Islamic Post A Railway Station Paragraph For SSC & HSC | Paragraph মৃত্যুর পরেও নেকি পাওয়ার ৬ টি উপায় | Islamic Post
Enable Notifications OK No thanks