বাংলা রচনা : জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচনা

1
895
মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার রচনা
মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার রচনা
Advertisements
5/5 - (2 votes)

বাংলা রচনা : জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান

Father of Nation Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman Essay


প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা আসা করি তোমরা ভাল আছো তোমাদের জন্য আজকে নিয়ে এলাম অসাধারণ একটি পোস্ট তা হল বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে রচনা । তো চল শুরু করি –

ভূমিকাঃ

পৃথিবী সৃষ্টির পর থেকে আজ পর্যন্ত এমন কিছু ব্যক্তিত্ব রয়েছেন যাদের হাতে মানবতার মুক্তির সনদ রচিত হয়েছে। ১,৪৭,৫৭০ বর্গকিলোমিটারের এই ছোট্ট ভূমির জন্ম যার নাম অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে আছে তিনি আর কেউ নন, সর্বকালের বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

জন্ম ও শৈশবঃ

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার (বর্তমানে জেলা) টুঙ্গিপাড়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। শেখ লুৎফর রহমান ও মোসাম্মৎ সাহারা খাতুনের চার কন্যা ও দুই পুত্রের মধ্যে শেখ মুজিব তৃতীয় সন্তান। বাবা-মা তাকে খোকা বলে ডাকতেন। খোকার শৈশব কেটেছে টুঙ্গিপাড়ায়।

Advertisements

ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ PDF Download করুন

১৯২৭ সালে, ৭ বছর বয়সে, তিনি গিমাডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। নয় বছর বয়সে তিনি গোপালগঞ্জ পাবলিক স্কুলে তৃতীয় শ্রেণীতে ভর্তি হন। পরে যোগ দেন স্থানীয় মিশনারি স্কুলে। ১৯৩৪ সালে, ১৪ বছর বয়সে, তিনি বেরিবেরিতে আক্রান্ত হন এবং কলকাতায় চোখের অপারেশন করান, চোখের রোগ তার পড়াশোনায় বাধা দেয়। ১৯৩৭ সালে, শেখ মুজিব চোখের রোগের কারণে চার বছর পর আবার স্কুলে ফিরে আসেন।

১৯৩৮ সালে, বঙ্গবন্ধু এবং বেগম ফজিলাতুন্নেসা ১৮ বছর বয়সে আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তারা দুই কন্যা শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা এবং তিন পুত্র শেখ কামাল, শেখ জামাল এবং শেখ রাসেলের পিতামাতা।

শিক্ষা জীবনঃ

শেখ মুজিব গিমাডাঙ্গা টুঙ্গিপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। এরপর তিনি ১৯৪২ সালে গোপালগঞ্জ মিশন হাই স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন। এরপর ১৯৪৪ সালে কলকাতার ইসলামিয়া কলেজ থেকে আইএ (এইচএসসি) এবং ১৯৪৭ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও ইতিহাসে বিএ পাস করেন। একই বছর তিনি আইন বিভাগে ভর্তি হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। কিন্তু ১৯৪৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের ন্যায্য দাবিতে আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে সমর্থন দেয়ায় তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়। উল্লেখ্য, ৬১ বছর পর ১৪ আগস্ট ২০১০ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শেখ মুজিবুর রহমানের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে।

বাংলা রচনা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান

বাংলা রচনা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান[/caption]

বৈবাহিক জীবনঃ

১৯৩৯ সালে মাত্র ১৯ বছর বয়সে শেখ মুজিবুর রহমান শেখ ফজিলাতুন্নেসাকে বিয়ে করেন। তাদের ঘর আলোকিত করেছে তিন ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শেখ রাসেল এবং দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা।

বৈপ্লবিক রাজনৈতিক জীবনঃ

শেখ মুজিবুর রহমান ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতি সচেতন ব্যক্তি ছিলেন। রাজনীতি তার রক্তে মিশে আছে। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে রাজনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমেই মহান কল্যাণ সম্ভব। তাই এদেশের সকল রাজনৈতিক আন্দোলনের অগ্রভাগে ছিলেন তিনি। গোপালগঞ্জ মিশন হাইস্কুলে অষ্টম শ্রেণীতে পড়ার সময় তিনি ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের জন্য সাত দিন জেল খেটেছিলেন।

ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ PDF Download করুন

  • – নেতৃত্বগুণের কারণে ১৯৪৬ সালে কলকাতা ইসলামিয়া কলেজের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
  • – ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ (বর্তমান বাংলাদেশ ছাত্রলীগ) প্রতিষ্ঠা করেন।
  • – ১১ মার্চ ১৯৪৮ সালে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের পিকেটিং এর সময় গ্রেফতার হন।
  • – ১৯৪৯ সালে মাওলানা ভাসানীর সাথে ভূখা মিছিলে নেতৃত্ব দান কালে গ্রেফতার হন।
  • – ১৯৪৯ সালে ২৩ জুন আওয়ামী মুসলিম লীগ এর জন্ম হলে কারাগারে থাকা অবস্থায় তিনি যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত হন।
  • – ১৯৫৩ সালে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
  • – ১৯৬৬ সালের ২৩ মার্চ পাকিস্তানের লাহোরে বাঙালির মুক্তিসনদ ছয় দফা উত্থাপন করেন। তিনি তাঁর রাজনৈতিক জীবনের একটি বৃহৎ অংশ মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে কাটান।
  • – ১৯৬৮ সালে আগড়তলা ষড়যন্ত্র মামলায় কারাভোগ করেন।
  • – এবং সর্বশেষ ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানিদের হাতে গ্রেফতার হন।

শেখ মুজিব থেকে বঙ্গবন্ধুঃ

শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন গণমানুষের নেতা। তিনি যেমন নিঃস্বার্থভাবে জনকল্যাণের রাজনীতি করতেন তেমন জনগণের ভালোবাসাও পেয়েছেন। তার মুক্তির দাবিতে রাজপথে বিশাল মিছিল, ছাত্র-জনতা বিক্ষোভ-অনশন তারই প্রমাণ। তিনি ছিলেন জনগণের বন্ধু। এর স্বীকৃতি স্বরূপ তৎকালীন ঢাকসুর ভিপি তোফায়েল আহমেদ ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করেন। এই উপাধিটি যে কেবল তার জন্যই যথাযথ ছিল তার প্রমাণ হলো পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধুই তাঁর নাম হয়ে যাওয়ায়।

বঙ্গবন্ধু থেকে জাতির পিতাঃ

বাঙালি জাতির স্বপ্নদ্রষ্টা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ জাতির কল্যাণে চিন্তামগ্ন থাকতেন। ৫ ডিসেম্বর ১৯৬৯ শহিদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুদিবসে তিনি তৎকালীন পূর্বপাকিস্তানের নামকরণ করেন “বাংলাদেশ” নামে। যা তাকে পিতার ভূমিকায় নিয়ে যায়। তাই পরবর্তীতে ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ পল্টন ময়দানে ঢাকসু’র ভিপি আসম আব্দুর রব বঙ্গবন্ধু শেখ শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘জাতির জনক’ উপাধি দেন।

বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ

ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণঃ

৭ই মার্চ, বাঙালি জাতির নতুন দিগন্তের সূচনার এক ঐতিহাসিক দিন। এ দিন ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতির ভবিষ্যৎ দিক-নির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি বলেন- “রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দেবো। তবু এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাআল্লাহ। এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।”

ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ PDF Download করুন

মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুঃ

৭ই মার্চের ভাষণ থেকেই আঁচ করা যায় যে তিনি আগাম যুদ্ধ প্রস্তুতির নির্দেশনা দিয়েছেন। ২৫ মার্চ রাত্রে গ্রেফতারের পূর্বমুহূর্তে তিনি স্বাধীনতা ঘোষণা করেন, This is my last message to you. From today Bangladesh is independent. তার ডাকে সমগ্র বাঙালি মুক্তি সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

ভাবসম্প্রসারণ : অতি বাড় বেড়ো না, ঝড়ে পড়ে যাবে ভাবসম্প্রসারণ

রাষ্ট্রনায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবঃ

বঙ্গবন্ধু সর্বপ্রথম ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়ে শেরে বাংলা একে ফজলুল হকের মন্ত্রিসভায় সমবায়, কৃষি ও বন বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫৬ সালের প্রাদেশিক মন্ত্রীসভায় শিল্প, শ্রম ও দুর্নীতি দমন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭০ সালের জাতীয় পরিষদের নির্বাচনে একক সংখ্যা গরিষ্ঠতার ভিত্তিতে তিনি পার্লামেন্টারি দলের নেতা নির্বাচিত হন। কিন্তু ইয়াহিয়া খান ক্ষমতা না ছাড়তে চাইলে এর পরিপ্রেক্ষিতে মুক্তিযুদ্ধের সূত্রপাত হয়। স্বাধীনতার পর তিনি বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তিনি প্রধানমন্ত্রীত্বও গ্রহণ করেন।

স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ও দেশ গঠনঃ

মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের মিওয়ালি কারাগারে ৯ মাস বন্দী থাকার পর অবশেষে বাংলাদেশে পদার্পণ করেন জনহিতৈষী স্বপ্নদ্রষ্টা, বাঙালির প্রাণপুরুষ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। লাখো মানুষের স্রোত নিয়ে বিখ্যাত রেসকোর্স ময়দানে আসেন মহান নেতা। দিলেন দেশ গড়ার দিক নির্দেশনা । ছুটে গেছেন দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। এছাড়াও তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সাহায্য চেয়েছেন। তিনি একটি শোষণমুক্ত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখেছিলেন যেখানে সবাই সুখে শান্তিতে বসবাস করবে। আর এ জন্য তিনি জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন।

ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ PDF Download করুন

বিশ্বসভায় বঙ্গবন্ধুঃ

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন অত্যন্ত স্পষ্টভাষী ও রসিক মানুষ। দেশের গন্ডি পেরিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক সভায়ও সমানভাবে সমাদৃত ছিলেন। তিনিই প্রথম ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলায় ভাষণ প্রদান করেন। তিনি ১৯৭২ সালে বিশ্বশান্তি পরিষদের দেওয়া সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘জুলিও কুরী’ পুরস্কার লাভ করেন।

অবেলায় বিদায়ঃ বাংলার ইতিহাসে জঘন্যতম দিন ১৫ আগস্ট ১৯৭৫। যার অঙ্গুলী হিলনে কোটি মানুষ প্রাণ বাজি রেখে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে সেই মহামানবকে কতিপয় নরপিশাচ স্বপরিবারে হত্যা করে বাংলার মাটিকে কলঙ্কিত করে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলার কতিপয় মানুষ নামের জানোয়ারেরা পিতৃহত্যার মতো ঘৃণ্য কাজের মাধ্যমে তাঁর স্বপ্নকে বিলীন করতে চেয়েছিল, কিন্তু তা সফল হয়নি। কারণ তার স্বপ্ন সারথীরা আজও জেগে আছে।

শেষ কথাঃ

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মাহাত্ম্য তাকে চিরকাল বাঁচিয়ে রাখবে। কিউবার বিপ্লবী নেতা ফিদেল কাস্ত্রো বলেছিলেন- “আমি হিমালয় দেখিনি, আমি শেখ মুজিবকে দেখেছি।”

উপসংহারের ধারে দাঁড়িয়ে বলতে হবে- ‘যতদিন রবে পদ্মা, মেঘনা, গৌরি, যমুনা বহমান ততদিন রবে কীর্তি তোমার শেখ মুজিবুর রহমান।’।

আরো পড়ুন :

 

 

1 COMMENT

Leave a Reply